তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তাঁর এই সফরের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করবেন। ২০১৫ সালের পর মার্কিন মূলভূখণ্ডে এটিই তাঁর প্রথম সফর। সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই সফরের মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক সফর সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। গত মে মাসে বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার সময় সি চিন পিং দুই দেশের আলোচনার ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন তুলেছিলেন।
প্রশ্ন তিনটি ছিল—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডিসের ফাঁদ (Thucydides Trap) অতিক্রম করে বড় দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে? দুই দেশ কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বের জন্য আরও বেশি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে? এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও মানবতার ভবিষ্যতের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব কি না?
বহু বছরের অস্থিরতা, বাণিজ্য বিরোধ ও প্রযুক্তি খাতে নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সি চিন পিং বিশ্বের দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে সম্পর্ক সঠিকভাবে বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন। মে মাসে বেইজিং সম্মেলন সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি সঞ্চার করে। আগামী তিন বছর এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা।
চিংহুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পরিচালক দা ওয়েই বলেন, এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম চীন ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে—সে বিষয়ে এমন একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা উভয় পক্ষের নেতারাই ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যে ফোনালাপ করেছেন। ওয়াং ই বলেছেন, রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতিই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মূল ভিত্তি। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সি চিন পিং বিভিন্ন উপায়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
গত মে মাসে বেইজিংয়ের ঝোংনানহাইয়ে চীনের নেতৃত্বের কমপ্লেক্সে ট্রাম্পকে ব্যক্তিগত বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সি চিন পিং। খুব কম বিদেশি নেতাই এমন আমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন। সেখানে চা পানের সময় সি চিন পিং বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চান, তেমনি তিনিও চীনা জনগণকে জাতীয় পুনর্জাগরণের পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
